দুদিন ধরে জগন্নাথপুর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, হারিকেন-মোমবাতি এখন ভরসা

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বন্যার কারণে সিলেটের বরইকান্দি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সুইচ ইয়ার্ড ও কন্ট্রোল রুম পানিতে নিমজ্জিত থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সাবস্টেশনটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই সাবস্টেশন থেকে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের সংযোগ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় থাকায় ওই উপজেলায় টানা দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে কয়েক হাজার গ্রাহক। এ অবস্থায় ওই উপজেলার মানুষের রাতের অন্ধকারে আলো পেতে হারিকেন আর মোমবাতি এখন প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা ৩৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলা। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।  বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল, চার্জ লাইট, ব্যাকআপ লাইটে চার্জের সুযোগ না থাকায় অনেকেই হারিকেন আর মোমবাতি জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘর আলোকিত রাখছেন।

জগন্নাথপুর বিদ্যুৎ অফিসের আগাম বার্তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের দোকানগুলোতে মোমবাতি সংকটও দেখা দেয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও সাময়িক এ সমস্যাকে পুজি করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়িছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মঈন উদ্দিন আহমেদ নামে একজন ফেসবুকে লেখেন, ভালো নেই আমরা জগন্নাথপুরবাসী। বিদ্যুৎবিহীন দুইদিন কবে বিদ্যুৎ সংযোগ হবে তা অনিশ্চিত। একযুগ আগের হারিকেন খুজে পেলাম। পরিষ্কার করছিলাম আমার মেয়ে প্রশ্ন করল এটা কি? আমি বললাম হারিকেন। এটা দিয়ে কি করবেন? বললাম এটা জ্বালিয়ে আলো দিব তাই হারিকেনের আলোতে মেয়েরা একটু আনন্দিত।

শানুর নামে একজন মঙ্গলবার রাতে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতিই এখন আমাদের ভরসা। কিন্তু এই মোমবাতিরই এখন সংকট। তিনি জানান, দোকানে অন্য কাজে গিয়ে দেখে এসেছি মোমবাতি ছিল। বিদ্যুৎ পাবো না জেনে ১০ মিনিট পরে আবার একই দোকানে মোমবাতির জন্য গেলে দেখি সব বিক্রি হয়ে গেছে। কয়েক দোকান ঘুরে মোমবাতি না পাওয়ায় মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হবে।

আবু তাহের নামে একজন জানান, জেনারেটরের জন্য পেট্রোল কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি এক ব্যবসায়ী প্রতি লিটার পেট্রোল ১১০ টাকা, আবার আরেক ব্যবসায়ী প্রতি লিটার ১০০ টাকা ধরে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ ৯০ টাকা ধরে প্রতি লিটার বিক্রি করছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, বরইকান্দি উপকেন্দ্র বন্যার কারণে সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন