শত কোটি টাকা ব্যয় করেও জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ সিসিক

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের জন্য ১২৯ কোটি টাকা ব্যয় করেও জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারেনি সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিত খাল, ছড়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতি না করতে পারলে এমন জলাবদ্ধতা সবসময় থাকবে বলে জানিয়েছেন সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য শিগগিরই সুইচ গেইট ও পাম্প স্টেশন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজ। জলাবদ্ধতার কারণে নগর জীবনে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ- বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলায় তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা যায়, সিলেট মহানগরের জলাবদ্ধতার খবর পুরোনো। তবে গেল বছর সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২৯ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সিসিক। শত কোটির টাকার কাজ চলমান থাকলেও কাজ চলছে ধীর গতিতে। যথা সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে আছে দুশ্চিন্তা। তবে সিসিক বলছে শ্রমিক সংকট থাকায় ও বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন হবে।

গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার পয়েন্ট, সুবিদবাজার-মদিনা মার্কেট রাস্তা, শিবগঞ্জ-মিরের ময়দান সড়ক, উপশহরের বিভিন্ন রাস্তা, মেডিকেল রোড, মিরের ময়দান রোড, শাহী ঈদগাহ, কদমতলী বাস টার্মিনাল রোড, লাউয়াই ও বঙ্গবীর রোড সহ কয়েকটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বিভিন্ন বসত ঘরে জলাবদ্ধতার পানি দেখা গেছে। এমন জলাবদ্ধতার ফলে নগরজীবনে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। নগরবাসীর দাবি সময়ের কাজ সময়ে করছে না সিসিক। উন্নয়নের ভোগান্তিতে নাজেহাল তারা।

রুবেল নামের উপশহর এলাকার বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা কষ্টে ছিলাম।

তিনি আরও জানান, রাস্তা থেকে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে ড্রেন ও ছড়া। অথচ ড্রেনে পড়ার যে পথ রাখা হয়েছে, তা ছোট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকেরা জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ছড়া, ড্রেন ও কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এসব ছড়া, ড্রেনে ময়না আবর্জনা ও পলিথিন জাতীয় বর্জ্য ফেলে দেন আশপাশে অবস্থানরত বসবাসকারীরা। ফলে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। নিয়মিত এসব ড্রেন, ছড়া পরিস্কার না করলে জলাবদ্ধতা নিরসনে যতোই কাজ করা হোক না কেন এর থেকে মুক্তি মিলবে না। প্রয়োজনে ছড়া ও ড্রেনের আশপাশে সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। জনসাধারণকে এসব কাজ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। পাশাপাশি জোড়ালে অভিযান চালাতে হবে। নতুবা জলাবদ্ধতা থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য সিসিকের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ছড়া বা ড্রেনের পাশ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সচেতন করতে হবে। কেননা ছড়া বা ড্রেনের পাশে যাঁরা বসবাস করেন তাদের অনেকেই পলিথিন ও ময়লা আবর্জনা ফেলে দেন। এসব কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা যতোই উন্নত করা হয় না কেন জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব নয়।এ ব্যাপারে সিসিকের নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সিসিটিভি লাগানো যেতে পারে। যাঁরা ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত করছেন সিসিটিভি দেখে তাদের জরিমানার আওতায় আনা যেতে পারে। তখন হয়তো ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতির ফল আমরা ভোগ করতে পারবো।’

ফারুক মাহমুদের সঙ্গে একমত পোষণ করে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘জলবদ্ধতার জন্য শুধু সিসিককে দায়ী করলে হবে না। এর দায়ভার নগরবাসীর। তারা যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন ফেলে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে পেলেন। ফলে পানি বের হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এভাবে নগরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা যাবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনা করে ড্রেন করা হয়েছে। রাস্তা থেকে ড্রেনে পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র বা ছোট পথে অনেক সময় আবর্জনায় আটকে যায়। এতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয় না। অতিবৃষ্টি হলে এমনিতে পানি নামতে সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করব, ওই পথগুলো বড় করার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ১২৯ কোটি টাকার ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের কাজ চলমান রয়েছে। যা চলতি বছরের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা কিন্তু শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টিপাতের কারণে যথাসময়ে শেষ করা যাবে না। ইতিমধ্যে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বর ডিসেম্বরে শেষ হতে পারে। এজন্য আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তারমধ্যে রয়েছে সুইচ গেইট ও পাম্পিং স্টেশন। নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পাবে তখন সুইচ গেইট দিয়ে পানি আটকিয়ে রেখে শহরে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হবে। আবার যখন প্রয়োজন মনে হবে তখন খুলে দেয়া হবে। আর পাম্পিং স্টেশন চালু হলে জলজট থেকে পানি নিষ্কাশন করে নির্ধারিত জায়গায় পানি এনে রাখা যাবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন