সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা, জন-ভোগান্তি

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জনজীবনে ভোগান্তির কারণ হয়ে গেছে। নগরের বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে৷ জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। তবু যেন জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না নগরবাসী। অপরিকল্পিত উন্নয়নে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সচেতন নাগরিকেরা জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মে) ভোর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটজুড়ে।

গত কয় দিন ধরে সমানতালে হচ্ছে এমন বৃষ্টি। অবিরাম বর্ষণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে শুক্রবার অফিস-আদালত বন্ধ। এরপরও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। জুমার নামাজ আদায় করতেও অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে মসজিদে পৌঁছাতে দেখা গেছে। সড়কজুড়ে হাটু পানি লেগে রয়েছে। পানি বের হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে ড্রেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতির কাজ চলায় অনেক জায়গায় বন্ধ রয়েছে এ রাস্তাটি।

গেল কয়েক দিন সকাল থেকে ভারি বর্ষণে টালমাটাল করে দিয়েছে মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক কাজের সূচি। দুপুর গড়াতেই নগরের বিভিন্ন সড়ক হয়ে পড়ে জলমগ্ন। তারপরও থেমে থাকেনি নগরজীবন। পানি ডিঙিয়ে চলাছল করেছে যানবাহন। কোথাও হাটু জল পেরিয়ে নগরের বাসিন্দাদের পথ চলতে দেখা যায়।

দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত এমন চিত্র ছিল নগরের অনেক সড়কে। যে কারণে ছড়াখাল উদ্ধারের পরও বর্ষায় জলজট নিয়ে নতুন করে ভাবনায় নগরের বাসিন্দারা।

বর্ষা আসার আগে জলমগ্নতা নিয়ে নগরবাসীর অনেকের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, কোটি টাকা খবর করে ছড়াখাল উদ্ধার ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালায় সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরপর বর্ষা আসার আগে এই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়- এটা দুঃখজনক।

বর্ষায় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে এমনটি জানিয়েছেন সুবিদবাজারে বসবাসকারী আনিসুল হক চৌধুরী মুন।

সিলেবলের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ মাসে গড় বৃষ্টিপাত ৫৮১ মিলি মিটার হওয়ার কথা। সে হিসেবে ৩২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এরআগে গত মাসেও ২৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সিলেট নগর কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত উন্নয়নে পরিকল্পনাহীন খোঁড়াখুঁড়িতে উন্মুক্ত রয়েছে ড্রেন, নালা-খালগুলো। ফলে বৃষ্টি হলেই ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে সড়কে। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন