বাস চাপায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, আহত ৫

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরে দায়িত্বরত অবস্থায় সিলেটগামী বাসের চাপায় সিলেট রেঞ্জ পুলিশের রাকিব আলী রানা নামের এক সদস্য নিহত ও ৩ পুলিশ সদস্যসহ আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সকলেই ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত রাকিব সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে উপজেলার বাসিন্দা ও পুলিশের ২০১৮ এর দ্বিতীয় ব্যাচের ছিলেন।

রোববার (৮ এপ্রিল) ভোর রাত ৪টার দিকে শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্তরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত অন্যান্য পুলিশ সদস্য হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামের আতাউর রহমান গুলজারের ছেলে কামরানুর রহমান, আনিস আহমেদ, শফিকুল (ইন্ডাস্ট্রিরিয়াল পুলিশের নায়ক উপশহরে কর্মরত), শফিকুলের ছেলে হিজবুল্লাহ ও তার স্ত্রী হাফিজা বেগম। পুলিশ সদস্য শফিকুল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নৈশকোচটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ সদস্যদের চাপা দিয়ে গোলচত্বরে ওঠে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রাকিব আলী রানা। আহত অন্যান্যদের সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এদিকে, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়ে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী হাসপাতালে যান সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ। দুপুর ১২টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে, আহতদের পাশে কিছু সময় কাটান এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলেন। চিকিৎসায় যাতে কোন ধরণের কমতি না হয় বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি।

মুঠোফোনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে যাই। আহত  পুলিশ সদস্য ও যাত্রীদের খোঁজখবর নেই। নিজে উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করিয়ে আসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের সুচিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আহদের তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানকে ব্যয়ভার গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ম অনুযায়ী নিহতের সকল প্রকার প্রাপ্ত প্রদান করা হবে। আমরা নিহত কনস্টবল রাকিব আলীর পরিবারের পাশে আছি। যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’

এসময় ডিআইজির সাথে ছিলেন, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) যেদান আল মুসা, ফয়সাল, ট্রাফিক পুলিশের ডিসি ফয়সাল মাহমুদ পিপিএম প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন