জগন্নাথপুরে প্রবাসীর বাড়ির গাছ কর্তন, ফসলাদি নষ্ঠসহ কেয়ারটেকারকে হুমকি

সারাদেশ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশারাই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মতিনের মালিকানাধীন ভূমি হতে মূল্যবান গাছ কর্তন, পুকরের মাছ চুরিসহ বিভিন্ন ফসলাদি নষ্ট এবং বাড়ির কেয়ারটেকারকে হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রবাসী আব্দুল মতিনের কেয়ারটেকার হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া গ্রামের সমজুল হকের ছেলে হুমাউন আহমদ বাদী হয়ে কুশারাই গ্রামের শরিফুল্লাহর ছেলে আব্দুল রকিবকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জগন্নাথপুর জোন, সুনামগঞ্জে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭৪/২০২২ইং।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মতিনের অনুমতি ক্রমে আব্দুর রকিব গং তাদের পুরাতন বিল্ডিং গুলোতে বসবাস করিয়া আসিতেছেন। ঘটনার তারিখ অর্থাৎ গত ২০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মামলার বাদীসহ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে প্রবাসী আব্দুল মতিনের বাড়ির উঠান, পুকুরের পাড় এবং ফসলী গাছের চারা পরিস্কার করতে গেলে বিবাদীগণসহ অজ্ঞাতনামা লোকজন আগাছা পরিস্কার করার জন্য বাধা প্রদান করেন।

বাদী মামলায় আরো উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে তাকে আক্রমন করার প্রস্তুতি নিলে তার আর্তচিৎকারে এলাকার লোকজন আসিলে বিবাদীরা পালিয়ে যায়। মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে ফৌজদারী আইনের ১৪৪ ধারা জারী করে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ।

মামলার বাদী হুমাউন আহমদ জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীরা প্রবাসী আব্দুল মতিনের মালিকানাধীন ভূমি হতে গাছ কর্তন এবং পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মতিনের ওপর কেয়ারটেকার জয়নগর গ্রামের আব্দুল ছত্তারের ছেলে দবির মিয়া বাদি হয়ে কুশারাই গ্রামের আতাউর রহমান আতাই, আব্দুর রকিব, অলিউর রহমান, হাবিবুর রহমানকে আসামী করে গত ২১এপ্রিল আমলগ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জগন্নাথপুর জোন সুনামগঞ্জে দ: বি: ৪৪৭/৪৪৮/৩৭৯/৪৫৮/৫০৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর ৬৩/২২ ইং।

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, আসামীগন এলাকায় গায়ের জোরে পেশী শক্তির মাধ্যমে চলাফেরা করে এবং এলাকার মুরব্বীয়ান সহ কাউকে তোয়াক্কা করেনা। যার ফলে তাদের অন্যায় কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায়না। প্রবাসী আব্দুল মতিনের মালিকানাধীন জায়গা সম্পতি আমি ও ওপর কেয়ারটেকার হুমাউন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে  দেখাশুনা করিয়া আসিতেছি।

বিবাদীগণ প্রায় সময় বাড়ির ফসলাদি ও গাছপালা কেঁটে নিয়ে যায়। গত ১২ এপ্রিল বিবাদী আতাউর রহমানের নেতৃত্বে আসামীগণ বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া প্রবাসী আব্দুল মতিনের মালিকানা ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আমগাছ কাটিয়া নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পিছনের পুকুরে জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার মাছ আহরণ করে নিয়ে যায়।

বাদী আরো আল্লেখ করেন, গত ১৪ এপ্রিল রাতে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে সকেসে থাকা ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ২ভড়ি ওজনের স্বর্নের হার বিবাদী আব্দুর রকিব ও ঐ সকেসে থাকা নগদ ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা আতাউর রহমান আতাই নিয়ে যায়। আমাদের আর্ত চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা পালিয়ে যায়।

এছাড়াও দবির মিয়া ফৌজদারী কার্যবিধির আইনের ১০৭ ধারায় আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন বিবাদী আতাউর রহমান ও আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে  দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার ওপর আক্রমন করিলে আমার আর্তচিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করেন। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাস করিতে পারিতেছিনা। তিনি জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের সু-দৃষ্ঠি কামনা করেন।

এবিষয়ে বিবাদী আতাউর রহমান আতাই জানান, আমাদের বসতবাড়ির ভূমির মালিক লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মতিন। বাড়িতে থাকা গাছগুলো আমাদের রোপনকৃত। বাড়িতে থাকা একটি গাছ কাটার কথা স্বীকার করলেও অন্যন্য অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন