এক জোড়া ম্যাকাও পাখি পুষতে গেলে গুনতে হবে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা!

অন্যান্য

খবরটুডে ডেস্ক:: চমৎকার ম্যাকাও পাখিকে কে না পুষতে চায়? কিন্তু এক জোড়া ম্যাকাও পাখি পুষতে গেলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্ংলগ্ন কাটাবনের রাস্তাটি ধরে হেটে যাবার সময় চোখে পরে রংবেরংয়ের মাছ বা বাহারী সব পাখির পসরা।পশুপ্রেমি শৌখিন মানুষরা এখান থেকে তাদের পছন্দের প্রানীটি কিনে থাকেন।

কাটাবনের এই মার্কেটে পাওয়া যায় নানা ধরনের পাখি, মাছ, কুকুর, বিড়ালছানা, খরগোশ কচ্ছপ ইত্যাদি। দেশীয় পাখির পাশাপাশি বিদেশি বা ব্রিড করা পশুপাখি পাওয়া যায় এখানে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন এখানে প্রিয় পোষ্যের জন্য। তেমনই একজন তাসকিন আহমেদ, তিনি কাজীপাড়া থেকে এসেছেন। কিনতে চান অ্যাকুরিয়ামসহ মাছ। কী ধরনের মাছ পছন্দ- জিজ্ঞেস করতেই উত্তর মিললো ‘গোল্ডফিশ’।

দোকানিদের কাছেও জানা গেলো একই বিষয়। ক্রেতাদের চাহিদার প্রথমেই রয়েছে গোল্ডফিশ।

কথা হয় অ্যাকুরিয়াম জোনের কর্নধারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত গোল্ডফিশের চাহিদাই এখানে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এঞ্জেল ফিশ, গাপ্পি, টাইগার, মলি, কমেট, প্ল্যাটি ইত্যাদি মাছও বিক্রি হয়ে থাকে।

কোন মাছের কেমন দাম তা জানতে চাইলে বলেন, বিভিন্ন মাছের বিভিন্ন দাম। গোল্ডফিশ ২৫০ থেকে শুরু করে ৪০০ অব্দি আছে। কমেট ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, প্ল্যাটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মলি ৮০ টাকা জোড়া। এঞ্জেল ফিশ ছোট আকারেরগুলো ৬০টাকা, মাঝারি ১৫০ ও বড় আকারের দাম প্রায় ৮০০ টাকা। এছাড়া মানভেদে দামের তারতম্য হয়।

মাছের দোকান এগুলেই সামনে পড়ে পাখির দোকান। নানারকম পাখির কলকাকলিতে সর্বদা মুখর হয়ে থাকে দোকানগুলো। নানারংয়ের বাহারী পাখিগুলো সহজেই আকর্ষণ করে ক্রেতাদের।

ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় কোন পাখি শীর্ষে, এ বিষয়ে কথা হয় বিল্লাল বার্ডসের বিক্রয়কর্মী তুষার আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্রেতারা মূলত লাভবার্ড পাখিটিই বেশি কিনে থাকে। ছোট সুন্দর পাখিটির দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। আরেকটু ভিন্ন জাত যেমন অপলাইন ফিশারের দাম প্রায় ১৬ হাজার টাকা। এছাড়াও বাজিগর, কাকাতুয়া, ঘুঘু, প্রিন্স, কোনর ইত্যাদি পাখিও পাওয়া যায়।

কাটাবনে সবচেয়ে দামি পাখির প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতেই উঠে এলো ম্যাকাও এর নাম। দেড় লাখ থেকে চার লাখ টাকা দাম এক জোড়া ম্যাকাও পাখির। এছাড়া এমাজন প্যারটের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা।

এছাড়াও এখানে পাওয়া যায় দেশি-বিদেশি কুকুর ও বিড়াল। পার্শিয়ান ক্যাট বা ল্যাব্রাডর ডগের পাশাপাশি দেশি কুকুর-বিড়ালের ছানাও মেলে এখানে।

যদিও কিছু প্রাণি বিক্রিতে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ক্ষেত্রবিশেষে দরকার হয় সরকারি লাইসেন্স। তবুও পশুপ্রেমী ক্রেতাদের নির্ভরযোগ্য স্থান হলো কাটাবন।

সংবাদটি শেয়ার করুন