দুশ্চিন্তাহীন থাকবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক:: প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের মস্তিষ্কে চলে নানা ধরনের চিন্তাভাবনা, যা জীবনধারনেরই একটি অংশ। তাই বলে সব চিন্তাই কি দুশ্চিন্তা? না, মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিংকিংকে বলা হয় দুশ্চিন্তা। জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করে চলাটা অবশ্যই ইতিবাচক বিষয় হলেও অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা করাটা অবশ্যই নেতিবাচক। একটি গবেষণার তথ্য মতে, দুশ্চিন্তার মূল কারণ হলো বাস্তবতার বাইরে চিন্তাভাবনা করা। সেটা হতে পারে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর এই মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে।

দুশ্চিন্তার লক্ষণ আছে বেশ কয়েকটি। তবে এগুলোই যে দুশ্চিন্তার আদর্শ মান তা নয়। নিচের বিষয়গুলো আপনার মধ্যে থাকলে বুঝে নেবেন যে ভালো থাকার জন্য আপনার বেশ কিছু পরিবর্তন দরকার-

অতীতের ভুলগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা করা।

নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক বিষয়গুলোকে মাথায় পোষা।

ঘুমাতে গেলে নানারকম চিন্তা মাথায় গেড়ে বসা।

নানা ধরনের চিন্তায় বিষন্ন থাকা।

ইচ্ছে থাকা সত্বেও দুশ্চিন্তাগুলো বাদ দিতে না পারা।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকা।

তৃতীয় ব্যক্তির মতামত নিয়ে খুব বেশি গ্রাহ্য করা।

অতীত আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে ভাবতে বর্তমানকেই ভুলে যাওয়া।

আত্মকেন্দ্রীক দুশ্চিন্তা বেশি করা।

উল্লেখিত বিষয়গুলোর বেশিরভাগ মিলে গেলে বুঝে নিতে হবে আপনি দুশ্চিন্তা নামক রোগে আক্রান্ত। অজান্তেই করছেন নিজের সর্বনাশ। জীবনের স্বাভাবিক গতিময়তা হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি ধ্বংস করছেন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা। এমনকি হয়ে যেতে পারেন মানসিক রোগীও।

আমাদের দেশে শারীরিক অসুস্থতাকে যতোটা গুরুত্বসহকারে দেখা হয়, মানসিক অসুস্থতাকে ততো বেশি গুরত্ব দেয়া হয় না। এর মূলে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা আমাদের দেশে খুবই কম।আমাদের আরো বেশি বোঝাপড়া তৈরি করা উচিৎ এবং এই বিষয়ে আরো অনেক আলোচনা করা উচিৎ।

দুচিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার বেশ কিছু উপায় রয়েছে। অতিরিক্ত চিন্তা নানা কারণে তৈরি হয়। প্রাকৃতিক নিয়মেই সমস্যার পর তার সমাধানের প্রক্রিয়া একটু জটিল হয়। তাই আপনার যদি মনে হয় আপনি ওভার থিঙ্কার, তাহলে দেরি না করে অনুসরন করুন এই প্রক্রিয়াগুলো।

পজিটিভ ইন, নেগেটিভ আউট:

যাবতীয় ঝামেলার মূল গোড়া নেতিবাচকতা।সুতরাং ঝেড়ে ফেলুন আপনার যাবতীয় নেগেটিভিটি,নিয়ে আসুন পজেটিভিটি।মনে রাখবেন,জীবন আপনার।সুতরাং ভালো রাখার দায়িত্বও আপনার।

কষ্টকর স্মৃতিগুলো ভুলে যান:

প্রত্যেকের জীবনেই কষ্টকর স্মৃতি থাকে।কিছু মুহূর্ত আসে যেগুলো ভুলে যাওয়া কষ্টকর।কিন্তু তাই বলে কষ্টকর স্মৃতিগুলো বয়ে বেড়ানো আপনাকে যন্ত্রনা ছাড়া আর কিছুই দেবে না।তাই এসব ভুলে যান, এবং জীবনের সুন্দর ও আনন্দময় বিষয়গুলো নিয়ে আসুন।

দিনের কাজ দিনেই করুন:

আগামীকালের জন্য কোনো কাজ জমিয়ে রাখবেন না।প্রাত্যাহিক কাজ প্রাত্যাহিকেই শেষ করুন।প্রয়োজনে রুটিন বানিয়ে নিন,এবং রাতে একটি পরিপূর্ন ঘুম দিন।

নিজেকে সময় দিন:

যান্ত্রিক জীবনের চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন?নিজের জন্য সময় বের করতে পারছেন না?ছুটি নিন সব কিছু থেকে।ঘুরে আসুন কোথাও।শখের কাজগুলো পূরন করুন।নিজের পরিবার,বাবা মায়ের সাথে সময় কাটান।

বর্তমানকে প্রাধান্য দিন:

দিনকে দিন অপটিমিস্টিক হতে হতে আমরা বর্তমানটাকেই ভুলে যাই।ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার কবলে পড়ে বর্তমানটাকেই নষ্ট করে ফেলি।মনে রাখবেন, বর্তমানটাই সব। সুতরাং, আগামীতে কী হবে এই দুশ্চিন্তা বাদ দিন।

মস্তিষ্ক স্থির রাখুন, ভালো থাকুন:

সবকিছুর আগে প্রয়োজন নিজের সুস্থতা।তার জন্য দরকার প্রোপার লাইফস্টাইল,খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম।রাত জাগা ছাড়ুন। সঠিক সময়ে ঘুমান। গবেষণা বলে, যারা মধ্যরাতে ঘুমাতে যায় তাদের তুলনায় সঠিক সময়ে ঘুমানো মানুষগুলো বেশি সুস্থ এবং কর্মক্ষম। উদ্বিগ্নতা, বিষন্নতা, নেতিবাচকতা বাদ দিতে হবে। তবেই ভালো থাকবে মস্তিষ্ক, ভালো থাকবেন আপনিও।

সুতরাং ঝেড়ে ফেলুন দুশ্চিন্তা, জীবনে স্বাগত জানান সুস্থতা এবং সফলতাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন