জগন্নাথপুরে গৃহবধূ হত্যা, মুলহোতা ঘাতক জিতেশ গ্রেফতার

সারাদেশ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যাকাণ্ডের মুলহোতা ফার্মেসী মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে (২৭) রাজধানী ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের একটি সিআইডি টিম। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় সিআইডি পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়।

জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের যাদব গোপের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর পৌর শহরের সি/এ মার্কেট এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছিলেন এবং শহরের পৌর পয়েন্ট এলাকায় অভি মেডিকেল হল নামে একটি ওষধের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের ভাই হেলাল মিয়া ফার্মেসীর মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ অভিকে প্রধান আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জনমনে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

এর আগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসী থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহনাজ পারভিন জ্যোৎস্নার (৩৮) ৬ টুকরো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ।

তিনি উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী সুরুক মিয়ার স্ত্রী। জগন্নাথপুর পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনের নয়াবাজার কলোনিতে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

নিহতের ভাই হেলাল মিয়া বলেন, বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমার বোনকে অভি মেডিকেলের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ অভি ফোন করে তার ফার্মেসীতে নিয়ে যায়। এরপর আমার বোন আর বাসায় ফেরেননি। রাতে খোঁজাখুঁজির পর অভির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে আমার বোনকে ফিরিয়ে দেবে বলে বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের একটি বাজারে যেতে বলে।

পরে সেখানে গিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর অভিকে ফোন দেই, কিন্তু ফোন বন্ধ পাই। পরে পুলিশ নিয়ে তার বাসায় গিয়ে দেখি বাসার দরজায় তালা লাগানো। তখন আমাদের সন্দেহ হয়। দুপুরে বাজারে তার ফার্মেসীতে গিয়ে তালা ভেঙে আমার বোনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, হত্যার পর লাশটি কেটে ৬ টুকরো করা হয়েছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন