দোয়ারাবাজারে মসজিদের খাস জায়গা উদ্ধারের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

সারাদেশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের হত্যা মামলার আসামী আলী হোসেন গং এর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী এবং জোর পূর্বক মসজিদের খাস জমি দখল ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পূর্ব মাছিমপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে মসজিদের সামনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গ্রামের পঞ্চায়িত হাজী সিরাজুল ইসলাম, কাঁচা মিয়া, হাজী কুতুবউদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য আলী আহমদ, মো.আমরু মিয়া, মামুন মিয়া, আমিনুল হক, মাও.আলী হায়দার, লাল মিয়া, গোল আহমদ, সায়েস্তা মিয়া, সিরাজুল ইসলাম কেচরা প্রমুখ।

পূর্ব মাছিমপুর জামে মসজিদের ইমাম মাও. মহসিন আহমেদ বলেন, আমাদেরকে হত্যার ভয় দেখিয়ে আলী হোসেন ও তার ভাইয়েরা জোর করে মসজিদের জায়গা দখল করে রেখেছে। তারা আরোও আমাদের উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে আমরা নাকি মসজিদের মাইক বাজিয়ে তাদের একঘর করেছি বিষয়টি মোটেও সত্যি নয়। মসজিদের জায়গা যাতে উদ্ধার করে দেওয়া হয় সেই জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

গ্রামের পঞ্চায়িত হাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার বয়স ৭৫, ঐ মসজিদের জায়গাটা ভাড়া দিয়ে আমরা মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করি। কিন্তু আলী হোসেনের পরিবার জোর করে মসজিদের জায়গা দখল করে রেখেছে। ভাড়া চাইতে গেলে আলী হোসেন আমাদের হত্যা হুমকি দেয় এবং সে টাকার জোরে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ করিয়েছে আমাদের পুরো গ্রামকে কংলসিত করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা তাদের এক ঘরে করে দেইনি, মসজিদে ও ডুকতে বাঁধা দেইনি। যদি তাকে এক ঘরে করে দিতাম তাহলে সে দোকান খুলল কিভাবে? মসজিদে আমাদের সাথে নামাজ পড়ছে কিভাবে? সে ভূয়া গুজব ছড়িয়ে মসজিদের জায়গা হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে।

গ্রামের পঞ্চায়িত কাঁচা মিয়া বলেন, আমরা আতংকে আছি, চিন্তায় আছি কখন কোন মায়ের বুক খালি হয়। আলী হোসেন মসজিদের জায়গা জোর করে দখলে রেখেছে, আর বলছে যে ওই জায়গা মসজিদের বলবে তাকেই হত্যা করবে। সরকার কাছে জোর দাবি জানাই দ্রুত যাতে মসজিদের জায়গা উদ্ধার করে দেওয়া হয়, তা না হলে এখানে বড় কোন অঘটন ঘটে যেতে পারে।

গ্রামের মুরুব্বি আমরু মিয়া বলেন, আলী হোসেনের কাছে আমার ভাগনা মাছের ২০০ টাকা পাওনা চাইলে সে প্রকাশ্যে আমার ভাগনাকে হত্যা করে। এবং জেল থেকে বের হয়ে সে আামাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। পরে সেই একঘরে করে রাখা পরিবারের ফয়সল আহমদকে দেখা যায় দোকানের ভিতর বসে মালামাল বিক্রি করছে তার দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় আপনাদের ত দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না তাহলে মালামাল বিক্রি করছেন কিভাবে? উত্তরে তিনি মুখ লুকিয়ে বলেন, আমি কোন রকম মন্তব্য করব না।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, একঘরে করে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়, মসজিদের জায়গা নিয়ে যে ঝামেলা তা ঈদের পর বসে সমাধান করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য-গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে দোয়ারায় পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে পঞ্চায়েত ওই নিউজটি শুধুই গুজব।

সংবাদটি শেয়ার করুন